Home Blog

স্কটল্যান্ডকে হারালে নতুন চ্যালেঞ্জে ব্রাজিল, পরিসংখ্যানে এগিয়ে সেলেসাওরা

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে পরিসংখ্যান ব্রাজিলের পক্ষেই কথা বলছে। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা এই ম্যাচে ড্র করলেই দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করবে। তবে জয় নিয়ে গ্রুপসেরা হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামছে সেলেসাওরা।

দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ইতোমধ্যে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে ব্রাজিল। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে দলে স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে তারকা ফুটবলার নেইমারের প্রত্যাবর্তন। তার ফেরা আক্রমণভাগকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন সমর্থক ও বিশ্লেষকরা।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে যুক্তরাজ্যের দলগুলোর বিপক্ষে ব্রাজিলের দারুণ রেকর্ড রয়েছে। এখন পর্যন্ত ১০ ম্যাচে অপরাজিত থেকে ৮ জয় ও ২ ড্র করেছে তারা। বিশ্বকাপে গ্রেট ব্রিটেনভুক্ত দলগুলোর বিপক্ষে ব্রাজিলের জয়ের হার ৮৬ দশমিক ৭ শতাংশ।

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষেও ইতিহাস একতরফাভাবে ব্রাজিলের পক্ষে। দুই দল বিশ্বকাপে চারবার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে তিনটিতে জয় পেয়েছে ব্রাজিল, আর একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। ১৯৭৪ সালে গোলশূন্য ড্রয়ের পর ১৯৮২ সালে ৪-১, ১৯৯০ সালে ১-০ এবং ১৯৯৮ সালে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় সেলেসাওরা।

শুধু স্কটল্যান্ড নয়, ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও বিশ্বকাপে শক্ত অবস্থান রয়েছে ব্রাজিলের। চার ম্যাচে তিন জয় ও এক ড্র তাদের। এছাড়া ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডকেও হারিয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।

তবে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করতে পারলেও নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে ব্রাজিল। গ্রুপসেরা হয়ে পরের পর্বে আরও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাদের। তাই জয় যেমন আত্মবিশ্বাস বাড়াবে, তেমনি নকআউট পর্বের কঠিন লড়াইয়ের প্রস্তুতিও হয়ে উঠবে ব্রাজিলের জন্য বড় পরীক্ষা।

চীনের দালিয়ানের সম্মেলন শেষে বেইজিংয়ের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

চীনের দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে বুলেট ট্রেনে করে তিনি বেইজিংয়ের পথে যাত্রা করেন। এ সময় সফরসঙ্গী হিসেবে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও ছিলেন।

বেইজিংয়ে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় সফরের মূল কর্মসূচি শুরু হবে। সফরের অংশ হিসেবে আগামী ২৫ ও ২৬ জুন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করার কথা রয়েছে।

এর আগে বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় চীনের দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’ সম্মেলনে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

‘নতুন চ্যাম্পিয়নদের ১৭তম বার্ষিক সভা’ শীর্ষক এই সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি গিনি, কাজাখস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া, মঙ্গোলিয়া ও মন্টিনিগ্রোর সরকারপ্রধানরা অংশ নেন। বিশ্বের ৯০টির বেশি দেশ ও অঞ্চল থেকে রাজনীতি, ব্যবসা, শিক্ষা ও গণমাধ্যম খাতের ১ হাজার ৭০০ জনের বেশি প্রতিনিধি এতে উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এ আয়োজনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের সক্ষমতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

এইচএসসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থী নকল করলে প্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী নকল করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

বুধবার (২৪ জুন) এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগামী ২ জুলাই শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো কোনো ঘটনা ঘটলে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। পরীক্ষাকে সুষ্ঠু, নকলমুক্ত ও স্বচ্ছ পরিবেশে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

তিনি আরও জানান, পরীক্ষকদের মূল্যায়নের মান নিশ্চিত করতে এলোমেলোভাবে উত্তরপত্র পুনরায় যাচাই করা হবে। কোনো পরীক্ষক সঠিকভাবে খাতা মূল্যায়ন না করলে বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সভায় শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৭ সাল থেকে এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ২০২২ সাল থেকে যেসব শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর ভাতা পাননি, তাদের বকেয়া অবসর ভাতা আগামী জুলাই মাসের মাঝামাঝি থেকে পরিশোধ শুরু হবে।

এ সময় তিনি জানান, দেশে ৬০ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদ দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

বিএমইউতে গুড ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস বিষয়ক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু।

ঢাকা, ২৪ জুন ২০২৬: বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)-এর উদ্যোগে ‘গুড ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস (Good Clinical Practice-GCP)’ বিষয়ক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে আয়োজিত এ কর্মশালার উদ্বোধন করেন বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ. এম. সিদ্দিকী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল (আইকিউএসি) আয়োজিত এ কর্মশালায় রিসোর্স পারসন হিসেবে অংশগ্রহণ করেন যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিনস ইউনিভার্সিটির ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট মো. হাফিজুর রহমান (এমবিবিএস, এমপিএইচ)। তিনি গুড ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস, গবেষণার নৈতিক দিক, বায়োইথিকস এবং জনস্বাস্থ্য নৈতিকতা বিষয়ে তথ্যসমৃদ্ধ বিভিন্ন প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন আইকিউএসি পরিচালক অধ্যাপক ডা. নুরুন নাহার খানম। যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক ডা. দীনে মুজাহিদ মোহাম্মদ ফারুক ওসমানী এবং ডা. আবু সালেহ মো. আবু ওবাইদা। কর্মশালায় বিএমইউর ৩৭ জন ফ্যাকাল্টি সদস্য অংশগ্রহণ করছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ. এম. সিদ্দিকী বলেন, গুড ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস বিষয়ক প্রশিক্ষণ চিকিৎসা পেশায় দক্ষতা বৃদ্ধির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কর্মশালার মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা নিজ নিজ বিভাগে রেসিডেন্ট চিকিৎসক, জুনিয়র শিক্ষক এবং সহকর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসা শিক্ষা, সেবা ও গবেষণায় বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, এই প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান ভবিষ্যতে দক্ষ চিকিৎসক সমাজ গঠন এবং আধুনিক স্বাস্থ্যখাত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আইকিউএসি পরিচালক অধ্যাপক ডা. নুরুন নাহার খানম বলেন, কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো ক্লিনিক্যাল সেবা ও গবেষণায় নৈতিক, পেশাগত ও বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড সম্পর্কে সমন্বিত ধারণা আরও সুদৃঢ় করা। তিনি বলেন, গুড ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস এমন একটি কাঠামো প্রদান করে, যা রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মানবাধিকার সংরক্ষণ, স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং সর্বোচ্চ নৈতিক মানদণ্ড অনুসরণে স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের সহায়তা করে।


কর্মশালায় জানানো হয়, দুই দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে বায়োমেডিকেল এথিক্স, জনস্বাস্থ্য নৈতিকতা, পেশাগত দায়িত্ববোধ, প্রশাসনিক নৈতিকতা, সাংগঠনিক সংস্কৃতি, নেতৃত্ব, নৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যসেবায় উদীয়মান প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি অংশগ্রহণমূলকভাবে সাজানো হয়েছে। এতে বক্তৃতার পাশাপাশি কেস অ্যানালাইসিস, নৈতিক বিতর্ক, দলীয় আলোচনা এবং ব্যবহারিক অনুশীলনের সুযোগ রাখা হয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, জনস্বাস্থ্য, মহামারীবিদ্যা ও আন্তর্জাতিক একাডেমিক নেতৃত্বে রিসোর্স পারসনের অভিজ্ঞতা বিএমইউর অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা ও গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
আয়োজকরা জানান, এ ধরনের উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ে মান নিশ্চিতকরণ, গবেষণার উৎকর্ষ সাধন এবং একাডেমিক শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা, জবাবদিহিতা, পেশাদারিত্ব, দলগত কাজ এবং আজীবন শিক্ষার সংস্কৃতি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী ফ্যাকাল্টিদের আলোচনায় সক্রিয় অংশগ্রহণ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং কর্মশালায় অর্জিত জ্ঞানকে দৈনন্দিন পেশাগত অনুশীলনে প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়।

কৃষক কার্ড নিয়ে আলোচনায় আসা টাঙ্গাইলের কৃষক কবির হোসেন আর নেই

0

টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ড গ্রহণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনায় আসা কৃষক কবির হোসেন মারা গেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের তারটিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কবির হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে শোকাহত পরিবারকে এই শোক সইবার শক্তি দানের জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।
উল্লেখ্য, গত ১৪ এপ্রিল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে কৃষক কার্ড গ্রহণের পর কবির হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় আসেন। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই প্রযুক্তিতে তৈরি ছবি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে কৃষি অধিদপ্তরসহ টাঙ্গাইল জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কবির হোসেনের বাড়ি পরিদর্শন করেন এবং তার কৃষি কার্যক্রম যাচাই করেন। তদন্তে তিনি একজন প্রকৃত কৃষক হিসেবে শনাক্ত হন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কবির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং নিজস্ব জমিসহ বিভিন্ন কৃষি কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতেন।
পরবর্তীতে তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে তার কৃষক পরিচয়ের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কের অবসান ঘটে। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে।

ডেঙ্গু মোকাবিলায় চিকিৎসকদের জাতীয় প্রশিক্ষণ শুরু, বিভাগ ও জেলায় বিস্তৃত হবে কার্যক্রম

দেশে ডেঙ্গুর বিস্তার এবং মৃত্যুহার নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকদের দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও করপোরেট হাসপাতালের চিকিৎসকদেরও এই উদ্যোগের আওতায় আনা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গু রোগী শনাক্তকরণ, ট্রায়াজ এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় জাতীয় প্রোটোকলের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করাই এই প্রশিক্ষণের প্রধান উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে দেশের সব পর্যায়ের চিকিৎসকদের ডেঙ্গুর ক্লিনিক্যাল ব্যবস্থাপনায় আরও দক্ষ করে তোলা হবে।
ইতোমধ্যে রাজধানীতে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স (টিওটি)’ কর্মসূচির দুটি ব্যাচ সম্পন্ন হয়েছে। এতে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালের মোট ১৩৫ জন চিকিৎসক অংশগ্রহণ করেছেন।
বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ডা. মো. ইলিয়াস ভূঁইয়া জানিয়েছেন, শিগগিরই দেশের আটটি বিভাগে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে। প্রতিটি বিভাগ থেকে প্রায় ৭০ জন চিকিৎসককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ডেঙ্গুপ্রবণ ৮ থেকে ১০টি জেলায় প্রথম ধাপে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
গত ৭ জুন জাতীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ডেঙ্গু বর্তমানে দেশের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সচেতন অংশগ্রহণও জরুরি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানিয়েছেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে তাদের মোট শয্যার ১০ শতাংশ ডেঙ্গু রোগীদের জন্য বিনামূল্যে বরাদ্দ রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু পরীক্ষার খরচে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য রোগনিয়ন্ত্রণ শাখা, আইইডিসিআর, এমআইএস এবং হাসপাতাল শাখার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু কর্নার স্থাপন এবং রোগীর চাপ বৃদ্ধি পেলে অতিরিক্ত ফিল্ড হাসপাতাল চালুর প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২২ জুন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫ হাজার ৯ জন রোগী। আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ঢাকা ও বরিশাল বিভাগে। এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে জুন মাসেই মারা গেছেন ৫ জন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ, সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ডেঙ্গুজনিত জটিলতা ও মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।

জামায়াতপন্থি ৭ ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও ১০ সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ

জামায়াতপন্থি ৭ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও ১০ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদত্যাগ করেছেন। সোমবার (২২ জুন) অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে তারা একযোগে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) পদত্যাগকারী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তারিকুল ইসলাম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।

পদত্যাগকারী ৭ ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন— ইউসুফ আলী, শফিকুর রহমান, আবদুল করিম, ফরিদ উদ্দিন খান, গোলাম রহমান ভুঁইয়া, আসাদ উদ্দিন ও তারিকুল ইসলাম।

অন্যদিকে পদত্যাগকারী ১০ সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন— ইমরুল কায়েছ রানা, হুমায়ুন কবির তানিম, আবদুল কাইয়ুম ভুঁইয়া, আবদুল্লাহিল মারফ ফাহিম, জোয়াদুর রহমান, শামসিল আরেফিন, মাহাবুবা আক্তার রলি, নূর নবী উজ্জ্বল, আল রেজা আমির ও রেজাউল ইসলাম।

রোনালদোরা কি উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জিতবেন? পূর্বাভাস দিল সুপারকম্পিউটার

চলমান বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘কে’-তে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে পর্তুগাল। হিউস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য এই ম্যাচে স্পষ্ট ফেবারিট হিসেবে মাঠে নামছে রবার্তো মার্তিনেজের দল।

অপটা সুপারকম্পিউটারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পর্তুগালের জয়ের সম্ভাবনা ৮৩.১ শতাংশ। উজবেকিস্তানের জয়ের সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ৬ শতাংশ, আর ড্র হওয়ার সম্ভাবনা ১১ শতাংশ।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে অনেকেই পর্তুগালকে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন। তবে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে কিছুটা হতাশ করেছে ইউরোপীয় দলটি। ওই ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে জোয়াও নেভেস গোল করে পর্তুগালকে এগিয়ে দিলেও সেটিই ছিল পুরো ম্যাচে তাদের একমাত্র অন-টার্গেট শট।

ম্যাচের পর আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে তিনটি শট নিলেও একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেননি তিনি। এর ফলে বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে টানা ১০টি বড় টুর্নামেন্ট ম্যাচে গোলহীন থাকলেন ৪১ বছর বয়সী এই তারকা।

পর্তুগাল অবশ্য বল দখল ও পাসিংয়ে দারুণ রেকর্ড গড়েছে। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচে তারা বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের সর্বোচ্চ বল দখল, সর্বোচ্চ পাস এবং সর্বোচ্চ পাস সফলতার হার রেকর্ড করে। তবে একই সঙ্গে মাত্র সাতটি শট নিয়ে নিজেদের যৌথভাবে সর্বনিম্ন শট নেওয়ার রেকর্ডও স্পর্শ করে তারা।

অন্যদিকে, নিজেদের ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে শুরুতেই ৩-১ গোলে কলম্বিয়ার কাছে হেরেছে উজবেকিস্তান। এই পরাজয়ে শেষ ৩২-এ ওঠার সম্ভাবনায় বড় ধাক্কা খেয়েছে ফাবিও কানাভারোর দল। বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচেও কানাডা ও নেদারল্যান্ডসের কাছে হারতে হয়েছিল তাদের।

বিশ্বকাপ তো বটেই, আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হচ্ছে পর্তুগাল ও উজবেকিস্তান। তবে এশিয়ান দলের বিপক্ষে পর্তুগালের সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ রেকর্ড খুব একটা ভালো নয়। অন্যদিকে, উজবেকিস্তান ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে শেষ ২৩ ম্যাচে মাত্র একবার জিতেছে।

সব মিলিয়ে পরিসংখ্যান ও পূর্বাভাসে এগিয়ে থাকলেও উজবেকিস্তানকে হালকাভাবে নিচ্ছে না পর্তুগাল। রোনালদোদের সামনে তাই জয়ের চাপ যেমন আছে, তেমনি আছে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগও।

অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু, যুক্ত ৩৫ মন্ত্রণালয়

দেশে অসংক্রামক রোগের বিস্তার রোধ এবং এ-সংক্রান্ত মৃত্যুহার কমাতে সরকার ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নিয়ে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) কারিগরি সহায়তা এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে গঠিত ‘অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ সমন্বয় কমিটি’র প্রথম উচ্চপর্যায়ের সভায় এ বিষয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দেশে মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশের জন্য দায়ী অসংক্রামক রোগ
সাম্প্রতিক সরকারি তথ্য ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ ঘটে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ এবং মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের কারণে।
এ ছাড়া, এসব রোগে মৃত্যুবরণকারীদের প্রায় অর্ধেকই ৭০ বছরের আগেই প্রাণ হারাচ্ছেন, যা অকাল মৃত্যুর হার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অসংক্রামক রোগের অর্থনৈতিক প্রভাবও উদ্বেগজনক। দেশে স্বাস্থ্যসেবায় মোট ব্যয়ের প্রায় ৬৯ শতাংশ রোগীদের নিজস্ব অর্থ থেকে বহন করতে হয়, যার বড় অংশই দীর্ঘমেয়াদি এসব রোগের চিকিৎসায় ব্যয় হয়।
১ থেকে ৩ মাসের মধ্যে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ
সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব ও সচিবরা অংশ নেন। সভায় প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে আগামী এক থেকে তিন মাসের মধ্যে নিজ নিজ খাতভিত্তিক সময়সীমা নির্ধারিত ও পরিমাপযোগ্য কর্মপরিকল্পনা (অ্যাকশন প্ল্যান) প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে আগামী এক মাসের মধ্যে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি বা ‘ফোকাল পয়েন্ট’ হিসেবে মনোনীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
‘সব নীতিতে স্বাস্থ্য’ ধারণা বাস্তবায়নের উদ্যোগ
সরকার ‘সব নীতিতে স্বাস্থ্য’ (Health in All Policies) নীতিকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আওতায় ভবিষ্যতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প, নীতি প্রণয়ন ও মানবসম্পদ পরিকল্পনায় অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধের বিষয়টি বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
উদাহরণ হিসেবে শিক্ষা খাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত কায়িক পরিশ্রমে উৎসাহিত করা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া, প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে তাদের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে বার্ষিক প্রতিবেদন জমা দিতে হবে, যা নিয়মিত মূল্যায়নের আওতায় আনা হবে।
‘চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধ অধিক কার্যকর’
সভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশে নিযুক্ত প্রতিনিধি ড. আহমেদ জামশেদ মোহাম্মদ সরকারের এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, শুধু চিকিৎসা ও ওষুধনির্ভর ব্যবস্থা দিয়ে অসংক্রামক রোগের ক্রমবর্ধমান চাপ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষের মধ্যে নিয়মিত হাঁটাচলা, কায়িক পরিশ্রম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে এসব রোগ প্রতিরোধে কার্যকর অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব।
তিনি বলেন, “চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধ অধিক কার্যকর। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে পারলে অসংক্রামক রোগের ভয়াবহতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।”

প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট

বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও আলোইস জভিংগি। মঙ্গলবার (২৩ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় চীনের দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে আলোইস জভিংগি সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের মতো ডেল্টা রাষ্ট্র এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর সহায়তায় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামকে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পানির প্রবাহ পুনরুদ্ধার, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস এবং পরিবেশ সুরক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তারেক রহমান আরও জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে উৎসাহ প্রদানের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে কর সুবিধা দিয়েছে। এছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।

আলোইস জভিংগি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিজ্ঞতা ও উদ্যোগকে বৈশ্বিক পরিসরে কাজে লাগানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ সৃষ্টি করবে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে তিনি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান।

সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।