টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ড গ্রহণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনায় আসা কৃষক কবির হোসেন মারা গেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের তারটিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কবির হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে শোকাহত পরিবারকে এই শোক সইবার শক্তি দানের জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।
উল্লেখ্য, গত ১৪ এপ্রিল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে কৃষক কার্ড গ্রহণের পর কবির হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় আসেন। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই প্রযুক্তিতে তৈরি ছবি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে কৃষি অধিদপ্তরসহ টাঙ্গাইল জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কবির হোসেনের বাড়ি পরিদর্শন করেন এবং তার কৃষি কার্যক্রম যাচাই করেন। তদন্তে তিনি একজন প্রকৃত কৃষক হিসেবে শনাক্ত হন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কবির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং নিজস্ব জমিসহ বিভিন্ন কৃষি কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতেন।
পরবর্তীতে তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে তার কৃষক পরিচয়ের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কের অবসান ঘটে। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে।
কৃষক কার্ড নিয়ে আলোচনায় আসা টাঙ্গাইলের কৃষক কবির হোসেন আর নেই
ডেঙ্গু মোকাবিলায় চিকিৎসকদের জাতীয় প্রশিক্ষণ শুরু, বিভাগ ও জেলায় বিস্তৃত হবে কার্যক্রম
দেশে ডেঙ্গুর বিস্তার এবং মৃত্যুহার নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকদের দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও করপোরেট হাসপাতালের চিকিৎসকদেরও এই উদ্যোগের আওতায় আনা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গু রোগী শনাক্তকরণ, ট্রায়াজ এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় জাতীয় প্রোটোকলের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করাই এই প্রশিক্ষণের প্রধান উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে দেশের সব পর্যায়ের চিকিৎসকদের ডেঙ্গুর ক্লিনিক্যাল ব্যবস্থাপনায় আরও দক্ষ করে তোলা হবে।
ইতোমধ্যে রাজধানীতে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স (টিওটি)’ কর্মসূচির দুটি ব্যাচ সম্পন্ন হয়েছে। এতে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালের মোট ১৩৫ জন চিকিৎসক অংশগ্রহণ করেছেন।
বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ডা. মো. ইলিয়াস ভূঁইয়া জানিয়েছেন, শিগগিরই দেশের আটটি বিভাগে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে। প্রতিটি বিভাগ থেকে প্রায় ৭০ জন চিকিৎসককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ডেঙ্গুপ্রবণ ৮ থেকে ১০টি জেলায় প্রথম ধাপে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
গত ৭ জুন জাতীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ডেঙ্গু বর্তমানে দেশের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সচেতন অংশগ্রহণও জরুরি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানিয়েছেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে তাদের মোট শয্যার ১০ শতাংশ ডেঙ্গু রোগীদের জন্য বিনামূল্যে বরাদ্দ রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু পরীক্ষার খরচে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য রোগনিয়ন্ত্রণ শাখা, আইইডিসিআর, এমআইএস এবং হাসপাতাল শাখার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু কর্নার স্থাপন এবং রোগীর চাপ বৃদ্ধি পেলে অতিরিক্ত ফিল্ড হাসপাতাল চালুর প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২২ জুন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫ হাজার ৯ জন রোগী। আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ঢাকা ও বরিশাল বিভাগে। এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে জুন মাসেই মারা গেছেন ৫ জন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ, সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ডেঙ্গুজনিত জটিলতা ও মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।
জামায়াতপন্থি ৭ ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও ১০ সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ
জামায়াতপন্থি ৭ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও ১০ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদত্যাগ করেছেন। সোমবার (২২ জুন) অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে তারা একযোগে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) পদত্যাগকারী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তারিকুল ইসলাম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।
পদত্যাগকারী ৭ ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন— ইউসুফ আলী, শফিকুর রহমান, আবদুল করিম, ফরিদ উদ্দিন খান, গোলাম রহমান ভুঁইয়া, আসাদ উদ্দিন ও তারিকুল ইসলাম।
অন্যদিকে পদত্যাগকারী ১০ সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন— ইমরুল কায়েছ রানা, হুমায়ুন কবির তানিম, আবদুল কাইয়ুম ভুঁইয়া, আবদুল্লাহিল মারফ ফাহিম, জোয়াদুর রহমান, শামসিল আরেফিন, মাহাবুবা আক্তার রলি, নূর নবী উজ্জ্বল, আল রেজা আমির ও রেজাউল ইসলাম।
রোনালদোরা কি উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জিতবেন? পূর্বাভাস দিল সুপারকম্পিউটার
চলমান বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘কে’-তে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে পর্তুগাল। হিউস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য এই ম্যাচে স্পষ্ট ফেবারিট হিসেবে মাঠে নামছে রবার্তো মার্তিনেজের দল।
অপটা সুপারকম্পিউটারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পর্তুগালের জয়ের সম্ভাবনা ৮৩.১ শতাংশ। উজবেকিস্তানের জয়ের সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ৬ শতাংশ, আর ড্র হওয়ার সম্ভাবনা ১১ শতাংশ।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে অনেকেই পর্তুগালকে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন। তবে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে কিছুটা হতাশ করেছে ইউরোপীয় দলটি। ওই ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে জোয়াও নেভেস গোল করে পর্তুগালকে এগিয়ে দিলেও সেটিই ছিল পুরো ম্যাচে তাদের একমাত্র অন-টার্গেট শট।
ম্যাচের পর আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে তিনটি শট নিলেও একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেননি তিনি। এর ফলে বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে টানা ১০টি বড় টুর্নামেন্ট ম্যাচে গোলহীন থাকলেন ৪১ বছর বয়সী এই তারকা।
পর্তুগাল অবশ্য বল দখল ও পাসিংয়ে দারুণ রেকর্ড গড়েছে। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচে তারা বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের সর্বোচ্চ বল দখল, সর্বোচ্চ পাস এবং সর্বোচ্চ পাস সফলতার হার রেকর্ড করে। তবে একই সঙ্গে মাত্র সাতটি শট নিয়ে নিজেদের যৌথভাবে সর্বনিম্ন শট নেওয়ার রেকর্ডও স্পর্শ করে তারা।
অন্যদিকে, নিজেদের ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে শুরুতেই ৩-১ গোলে কলম্বিয়ার কাছে হেরেছে উজবেকিস্তান। এই পরাজয়ে শেষ ৩২-এ ওঠার সম্ভাবনায় বড় ধাক্কা খেয়েছে ফাবিও কানাভারোর দল। বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচেও কানাডা ও নেদারল্যান্ডসের কাছে হারতে হয়েছিল তাদের।
বিশ্বকাপ তো বটেই, আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হচ্ছে পর্তুগাল ও উজবেকিস্তান। তবে এশিয়ান দলের বিপক্ষে পর্তুগালের সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ রেকর্ড খুব একটা ভালো নয়। অন্যদিকে, উজবেকিস্তান ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে শেষ ২৩ ম্যাচে মাত্র একবার জিতেছে।
সব মিলিয়ে পরিসংখ্যান ও পূর্বাভাসে এগিয়ে থাকলেও উজবেকিস্তানকে হালকাভাবে নিচ্ছে না পর্তুগাল। রোনালদোদের সামনে তাই জয়ের চাপ যেমন আছে, তেমনি আছে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগও।
অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু, যুক্ত ৩৫ মন্ত্রণালয়
দেশে অসংক্রামক রোগের বিস্তার রোধ এবং এ-সংক্রান্ত মৃত্যুহার কমাতে সরকার ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নিয়ে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) কারিগরি সহায়তা এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে গঠিত ‘অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ সমন্বয় কমিটি’র প্রথম উচ্চপর্যায়ের সভায় এ বিষয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দেশে মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশের জন্য দায়ী অসংক্রামক রোগ
সাম্প্রতিক সরকারি তথ্য ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ ঘটে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ এবং মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের কারণে।
এ ছাড়া, এসব রোগে মৃত্যুবরণকারীদের প্রায় অর্ধেকই ৭০ বছরের আগেই প্রাণ হারাচ্ছেন, যা অকাল মৃত্যুর হার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অসংক্রামক রোগের অর্থনৈতিক প্রভাবও উদ্বেগজনক। দেশে স্বাস্থ্যসেবায় মোট ব্যয়ের প্রায় ৬৯ শতাংশ রোগীদের নিজস্ব অর্থ থেকে বহন করতে হয়, যার বড় অংশই দীর্ঘমেয়াদি এসব রোগের চিকিৎসায় ব্যয় হয়।
১ থেকে ৩ মাসের মধ্যে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ
সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব ও সচিবরা অংশ নেন। সভায় প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে আগামী এক থেকে তিন মাসের মধ্যে নিজ নিজ খাতভিত্তিক সময়সীমা নির্ধারিত ও পরিমাপযোগ্য কর্মপরিকল্পনা (অ্যাকশন প্ল্যান) প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে আগামী এক মাসের মধ্যে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি বা ‘ফোকাল পয়েন্ট’ হিসেবে মনোনীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
‘সব নীতিতে স্বাস্থ্য’ ধারণা বাস্তবায়নের উদ্যোগ
সরকার ‘সব নীতিতে স্বাস্থ্য’ (Health in All Policies) নীতিকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আওতায় ভবিষ্যতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প, নীতি প্রণয়ন ও মানবসম্পদ পরিকল্পনায় অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধের বিষয়টি বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
উদাহরণ হিসেবে শিক্ষা খাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত কায়িক পরিশ্রমে উৎসাহিত করা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া, প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে তাদের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে বার্ষিক প্রতিবেদন জমা দিতে হবে, যা নিয়মিত মূল্যায়নের আওতায় আনা হবে।
‘চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধ অধিক কার্যকর’
সভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশে নিযুক্ত প্রতিনিধি ড. আহমেদ জামশেদ মোহাম্মদ সরকারের এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, শুধু চিকিৎসা ও ওষুধনির্ভর ব্যবস্থা দিয়ে অসংক্রামক রোগের ক্রমবর্ধমান চাপ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষের মধ্যে নিয়মিত হাঁটাচলা, কায়িক পরিশ্রম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে এসব রোগ প্রতিরোধে কার্যকর অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব।
তিনি বলেন, “চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধ অধিক কার্যকর। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে পারলে অসংক্রামক রোগের ভয়াবহতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।”
প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট
বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও আলোইস জভিংগি। মঙ্গলবার (২৩ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় চীনের দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে আলোইস জভিংগি সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের মতো ডেল্টা রাষ্ট্র এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর সহায়তায় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামকে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পানির প্রবাহ পুনরুদ্ধার, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস এবং পরিবেশ সুরক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তারেক রহমান আরও জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে উৎসাহ প্রদানের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে কর সুবিধা দিয়েছে। এছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।
আলোইস জভিংগি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিজ্ঞতা ও উদ্যোগকে বৈশ্বিক পরিসরে কাজে লাগানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ সৃষ্টি করবে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে তিনি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান।
সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।
আদ্-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধ: অনিশ্চয়তায় ২৯৫ বিদেশি শিক্ষার্থী, ডিগ্রির স্বীকৃতি নিয়ে শঙ্কা
রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের ২৯৫ বিদেশি শিক্ষার্থী। ক্লিনিক্যাল ক্লাস ও ইন্টার্নশিপ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের ডিগ্রির আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সমাধানের আশায় সোমবার (২২ জুন) শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরে গেলেও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেননি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয় তাদের।
গত ১১ জুন ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তর আদ্-দ্বীন হাসপাতালের নিবন্ধন স্থগিত করে। এর পর থেকেই হাসপাতালভিত্তিক ক্লিনিক্যাল শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এতে আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লিনিক্যাল ক্লাস ব্যাহত হচ্ছে এবং ইন্টার্নশিপ কোথায় সম্পন্ন হবে, সে বিষয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ২৯৫ জন বিদেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে ৮৬ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং ২০৯ জন নিয়মিত মেডিকেল শিক্ষার্থী। তাদের অধিকাংশই ভারতের নাগরিক।
ভারতের প্রচলিত মেডিকেল শিক্ষা বিধিমালা অনুযায়ী, বিদেশে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কলেজের নিজস্ব বা অনুমোদিত সংযুক্ত হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করলে দেশে ফিরে ডিগ্রির স্বীকৃতি পেতে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা।
ভারতের কাশ্মীর থেকে আসা এক শিক্ষার্থী রেজা বলেন, “বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা অন্য হাসপাতালে মাইগ্রেশনের সুযোগ পাচ্ছে। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে সেটি সম্ভব নয়। আমাদের কারিকুলাম অনুযায়ী এখানেই শিক্ষা কার্যক্রম শেষ করতে হবে। আমি আট বছর ধরে এখানে পড়াশোনা করছি। এখন যদি পড়াশোনা আটকে যায়, তাহলে আমার ডিগ্রির কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে পড়বে।”
আরেক শিক্ষার্থী খুজাইমা বলেন, “আমরা শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে আছি। দূতাবাসসহ বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগের চেষ্টা করেছি, কিন্তু কোনো সাড়া পাইনি। বাধ্য হয়ে অধিদপ্তরে এসেছিলাম বর্তমান পরিস্থিতি জানাতে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা না হওয়ায় আমরা আরও দুশ্চিন্তায় পড়েছি।”
এ বিষয়ে স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, বিদেশি শিক্ষার্থীদের বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেখছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান বলেন, শিক্ষার্থীরা অধিদপ্তরে এসেছিলেন বলে তিনি জেনেছেন। তবে অন্য একটি কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকায় তিনি উপস্থিত ছিলেন না। হাসপাতাল পুনরায় চালু হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত মহাপরিচালকই জানাতে পারবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
একই ধরনের বক্তব্য দেন অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান।
স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, একটি অবহেলার ঘটনার পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল পুনরায় চালুর বিষয়টি বিভিন্ন আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি জানান, আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষের আপিল করার সুযোগ এখনও রয়েছে। তবে তারা একদিকে স্বাস্থ্য সচিবের কাছে আবেদন করেছে এবং অন্যদিকে আদালতে রিট দায়ের করায় বিষয়টি জটিল হয়েছে।
বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর সিদ্ধান্ত দেবে।
অন্যদিকে আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিবন্ধন স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক আপিল না করে তারা মানবিক বিবেচনায় হাসপাতাল পুনরায় চালুর আবেদন করেছে।
আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুস সবুর বলেন, “লাইসেন্স স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আপিল নয়, আমরা রোগীদের স্বার্থ বিবেচনায় হাসপাতাল চালুর আবেদন করেছি। সরকারের নির্দেশিত সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের কাজ চলছে। আশা করছি, আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে।”
এর আগে গত ১৪ জুন শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়ে পরিকল্পনা জানতে চেয়ে আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয় স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন বলেন, হাসপাতাল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তর; শিক্ষা অধিদপ্তর কলেজ বন্ধ করেনি। শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে কলেজ কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা জানতে চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং এ মুহূর্তে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
রক্তদানের এক ফোঁটায় বাঁচতে পারে বহু প্রাণ।
“Give blood, give hope: together we save lives”— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রতি বছর ১৪ জুন বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব রক্তদাতা দিবস।
নিরাপদ রক্তের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে রক্তদানকে উৎসাহিত করা এবং রক্তদাতাদের অবদানের স্বীকৃতি দিতেই দিনটি পালন করে World Health Organization।
বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ দুর্ঘটনা, অস্ত্রোপচার, প্রসবজনিত জটিলতা, ক্যানসার, থ্যালাসেমিয়া ও অন্যান্য গুরুতর রোগের কারণে রক্তের প্রয়োজন হয়।
এসব রোগীর জীবন বাঁচাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন স্বেচ্ছায় রক্তদানকারী মানুষরা।
একজন সুস্থ মানুষের দেওয়া এক ব্যাগ রক্ত থেকে লোহিত রক্তকণিকা, প্লাজমা ও প্লাটিলেট আলাদা করে তিনজন পর্যন্ত রোগীর চিকিৎসায় ব্যবহার করা সম্ভব।
কেন ১৪ জুন?
অস্ট্রিয়ান বিজ্ঞানী Karl Landsteiner-এর জন্মদিন ১৪ জুন। তিনি ১৯০১ সালে রক্তের গ্রুপ বা এবিও (ABO) পদ্ধতি আবিষ্কার করেন, যা নিরাপদ রক্তসঞ্চালনের ভিত্তি তৈরি করে। তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৪ জুনকে বিশ্ব রক্তদাতা দিবস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিরাপদ রক্তের চাহিদা ও বাস্তবতাঃ
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি দেশের মোট জনসংখ্যার অন্তত ১ শতাংশ মানুষের নিয়মিত রক্তদান নিশ্চিত করা গেলে জাতীয় রক্তের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। তবে অনেক উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশেও এখনও প্রয়োজনের তুলনায় নিরাপদ রক্তের সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে।
বাংলাদেশে প্রতিবছর লাখ লাখ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়। থ্যালাসেমিয়া রোগী, প্রসূতি মা, সড়ক দুর্ঘটনার আহত ব্যক্তি, ক্যানসার রোগী এবং বড় ধরনের অস্ত্রোপচারের রোগীদের জন্য নিয়মিত রক্তের প্রয়োজন হয়। অনেক ক্ষেত্রে আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে রক্ত সংগ্রহ করতে গিয়ে রোগীর পরিবারকে ভোগান্তির শিকার হতে হয়। ফলে স্বেচ্ছায় রক্তদাতার সংখ্যা বাড়ানো সময়ের দাবি।
রক্তদান নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণাঃ
অনেকেই মনে করেন রক্ত দিলে শরীর দুর্বল হয়ে যায় বা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়।
চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক একজন ব্যক্তি নির্দিষ্ট সময় পরপর নিরাপদভাবে রক্ত দিতে পারেন। সাধারণত রক্তদানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শরীর হারানো তরল অংশ পূরণ করে ফেলে এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রক্তকণিকাও পুনরায় তৈরি হয়।
রক্তদানের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় এবং সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়। ফলে রক্তদানের মাধ্যমে কোনো সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে না।
রক্তদানের সামাজিক গুরুত্বঃ
রক্তদান শুধু একটি মানবিক কাজ নয়, এটি সামাজিক সংহতি ও সহমর্মিতারও প্রতীক। কোনো পরিচয়, ধর্ম, জাতি বা আর্থসামাজিক অবস্থান নয়— একজন রক্তদাতার দেওয়া রক্ত একজন অপরিচিত মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। এই মানবিক বন্ধন সমাজকে আরও সহানুভূতিশীল ও দায়িত্বশীল করে তোলে।
বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে স্বেচ্ছায় রক্তদানের সংস্কৃতি গড়ে উঠলে দেশের রক্তসংকট অনেকাংশে কমে আসতে পারে।
বর্তমানে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক প্ল্যাটফর্ম নিয়মিত রক্তদান কর্মসূচি পরিচালনা করছে, যা ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রক্তদানে যেসব বিষয় জানা জরুরিঃ
সাধারণত ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী সুস্থ ব্যক্তি রক্ত দিতে পারেন।
ওজন কমপক্ষে ৪৫-৫০ কেজি হওয়া প্রয়োজন।
রক্তদানের আগে পর্যাপ্ত ঘুম ও খাবার গ্রহণ করা উচিত।
পুরুষরা সাধারণত প্রতি চার মাস পর এবং নারীরা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট বিরতিতে রক্ত দিতে পারেন।
রক্তদানের পর পর্যাপ্ত পানি পান ও কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন।
মানবতার সবচেয়ে সহজ উপহারঃ
রক্তের কোনো কৃত্রিম বিকল্প নেই।
একজন মানুষের শরীর থেকে পাওয়া রক্তই আরেকজন মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। তাই বিশ্ব রক্তদাতা দিবস শুধু একটি দিবস নয়, এটি মানবতার প্রতি দায়বদ্ধতার এক শক্তিশালী বার্তা।
স্বেচ্ছায় রক্তদান হতে পারে এমন এক উপহার, যার বিনিময়ে পাওয়া যায় একজন মানুষের নতুন জীবন, একটি পরিবারের হাসি এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনের অনন্য তৃপ্তি।
এক ব্যাগ রক্ত, একাধিক জীবন— এই উপলব্ধিই হোক বিশ্ব রক্তদাতা দিবসের মূল প্রেরণা।
দৌলতপুর সাংবাদিক ফোরামের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন, সভাপতি সেলিম ও সম্পাদক তাশরিক সঞ্চয়
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সাংবাদিকদের সংগঠন দৌলতপুর সাংবাদিক ফোরাম-এর দুই বছর মেয়াদি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে দৈনিক ভোরের কাগজ–এর দৌলতপুর উপজেলা প্রতিনিধি এস আর সেলিম সভাপতি এবং মাছরাঙা টেলিভিশন–এর কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি তাশরিক সঞ্চয় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।
রোববার (২০ অক্টোবর) সংগঠনটির উপদেষ্টা সাইফুল ইসলাম (শাহীন) স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করা হয়। এর আগে সর্বসম্মতিক্রমে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছেন চ্যানেল টোয়েন্টিফোর–এর রিপন ফরায়েজী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেশ টিভি–এর সজল বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক দৈনিক গণকণ্ঠ–এর অন্তর আহমেদ, দপ্তর সম্পাদক দৈনিক জনবাণী–এর হাসনাউল হুসনা, অর্থ সম্পাদক দৈনিক কুষ্টিয়ার কাগজ–এর আবু জুবায়ের হোসেন লিমন এবং তথ্য, প্রকাশনা ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক দৈনিক কুষ্টিয়া দর্পণ–এর সাকিব আল হাসান।
কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক হাওয়া পত্রিকার আরিফুল ইসলাম, দৈনিক ইন্টারন্যাশনাল–এর সাইফুল ইসলাম এবং দ্যা পিপলস নিউজ–এর কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি মেছবাহ উদ্দীন।
উল্লেখ্য, ‘সঠিক সিদ্ধান্ত এবং বস্তুনিষ্ঠ খবর’ স্লোগানকে সামনে রেখে ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় দৌলতপুর সাংবাদিক ফোরাম। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সংগঠনটি স্থানীয় সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়ন, সাংবাদিক সমাজের ঐক্য এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চর্চার লক্ষ্যে কাজ করে আসছে। সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়েছিল তাশরিক সঞ্চয়কে আহ্বায়ক এবং এস আর সেলিমকে সদস্য সচিব করে।
বিশ্ব শান্তিরক্ষা মিশনকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
বিশ্বে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে আরও আধুনিক, দূরদর্শী ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দায়িত্ব পালনের জন্য সরকার পর্যায়ক্রমে সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
বুধবার (১০ জুন) ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রতিবছর ২৯ মে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হলেও এবার পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির কারণে বাংলাদেশে ১০ জুন দিবসটি উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৮৮ সাল থেকে বাংলাদেশ জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ১৭৫ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী প্রাণ উৎসর্গ করেছেন।
বক্তব্যের শুরুতে শহীদ শান্তিরক্ষীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগ প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা শুধু দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নয়, জাতিসংঘের পতাকাতলে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায়ও দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
তিনি আরও বলেন, প্রতিকূল পরিবেশ, সীমাবদ্ধতা ও নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেও বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গৌরব ও সুনাম অর্জন করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের দুই লাখের বেশি সদস্য বিশ্বের ৪৩টি দেশের প্রায় ৬৩টি শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার ৮৬০ জন বাংলাদেশি ১০টি মিশনে কর্মরত রয়েছেন এবং হাইতিতে নতুন একটি মিশনে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে।
নারীদের অংশগ্রহণের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্য যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।
শান্তিরক্ষীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থেকে প্রতিকূল পরিবেশে নিষ্ঠা, সাহস ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য জাতি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ।
অনুষ্ঠানে ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অবদান তুলে ধরা হয়। এছাড়া শহীদ শান্তিরক্ষীদের পরিবার এবং আহত সদস্যদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।
সশস্ত্র বাহিনীকে দেশের স্বাধীনতা, সম্মান ও সাহসের প্রতীক উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক এবং সেনাবাহিনীর একজন মেজর স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, এই গৌরব রক্ষা করা সশস্ত্র বাহিনীর দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সময়ে সশস্ত্র বাহিনীকে ঘিরে নানা অপতৎপরতা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর স্বাধীনতার ঘোষকের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর ঐক্যবদ্ধভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরবর্তীতেও বিভিন্ন সময়ে বাহিনীর ঐক্য নষ্টের চেষ্টা হয়েছে।
২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে সশস্ত্র বাহিনীর ওপর বড় আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই ঘটনার পরিণতি দেশের মানুষ জানে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পেশাদারিত্ব, ঐক্য, শৃঙ্খলা এবং চেইন অব কমান্ড ছাড়া কোনো ইউনিফর্মধারী বাহিনীর সম্মান ও মর্যাদা বজায় রাখা সম্ভব নয়।
ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে নিজেদের আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, দেশে বা বিদেশে যে দায়িত্বই পালন করা হোক না কেন, তা যথাযথভাবে সম্পন্ন করাই সবার অঙ্গীকার হওয়া উচিত।
পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা ও প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের কারণে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জ আরও জটিল হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত যুদ্ধের পাশাপাশি সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, মিডিয়া অপপ্রচার এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নিরাপত্তা সংকট বিশ্বশান্তির জন্য নতুন হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শান্তিরক্ষা মিশনগুলোকে আরও আধুনিক, দূরদর্শী ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যেই সরকার সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ধারাবাহিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সংবিধানে বর্ণিত বিশ্বশান্তি, আন্তর্জাতিক সহাবস্থান ও ন্যায়বিচারের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার অটুট রয়েছে। দেশ সব সময় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও পারস্পরিক রাষ্ট্রীয় মর্যাদার নীতিতে বিশ্বাসী এবং বহুপক্ষীয় কূটনীতি ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকারী বাংলাদেশের সদস্যরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁদের পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার মাধ্যমে দেশের মর্যাদা আরও সমুন্নত করবেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম এবং সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। এতে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান, সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।











