দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বাড়তে থাকায় এবার শিশুদের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্ক ও গর্ভবতী নারীদের মধ্যেও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
তাদের মতে, শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতির কারণেই ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় আক্রান্ত শিশুর সংস্পর্শে এসে অনেক প্রাপ্তবয়স্কও আক্রান্ত হচ্ছেন। যদিও অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে জটিলতা তুলনামূলক কম, তবে গর্ভবতী নারীদের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, গর্ভাবস্থায় হাম হলে অনাগত শিশুর জন্মগত ত্রুটি, হৃদরোগ কিংবা অন্যান্য শারীরিক জটিলতার আশঙ্কা বাড়তে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৬ হাজার ৮৮১ শিশু। এর মধ্যে ৭ হাজার ২৪ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩২ হাজার ৮৭৭ শিশু। হাম ও এর উপসর্গে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ৪২৪ জন।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, বর্তমানে অনেক প্রাপ্তবয়স্ক রোগীও হাম নিয়ে হাসপাতালে আসছেন। তবে বড়দের মধ্যে মৃত্যুর ঘটনা এখনো তেমন দেখা যায়নি। তিনি সবাইকে মাস্ক ব্যবহার ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান। বিশেষ করে আক্রান্ত শিশুর সংস্পর্শে এলে সতর্ক থাকতে বলেন তিনি।
অধ্যাপক ডা. মুসাররাত সুলতানা সুমি বলেন, গর্ভবতী নারীদের জন্য হাম বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই তাদের ভিড় এড়িয়ে চলা ও সংক্রমিত ব্যক্তির কাছ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মোসতাক হোসেন জানান, ভাইরাসের বিস্তার বেশি হওয়ায় বড়রাও আক্রান্ত হচ্ছেন। তিনি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য হাম-রুবেলা টিকা নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।
অন্যদিকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বেনজীর আহমেদ বলেন, শিশুদের নির্ধারিত সময়ে ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে হাম-রুবেলা টিকা নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব এড়ানো সম্ভব হতো।
তিনি পাঁচ বছরের কম বয়সী অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনার ওপর জোর দেন।



