দুই বছর আগে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ২-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ জয় এখনও দেশের ক্রিকেটে স্মরণীয় এক অধ্যায়। পাকিস্তানের মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজ জয়ের সেই অর্জন শুধু ফলাফলের দিক থেকেই নয়, বরং প্রতিপক্ষের শক্ত ঘাঁটিতে গিয়ে এমন সাফল্য পাওয়ার কারণে আলাদা গুরুত্বও বহন করে।
দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে জয়হীন থাকার পর হঠাৎ করেই ওই সিরিজে বাংলাদেশ দুই ম্যাচেই দারুণ জয়ে নিজেদের সক্ষমতার জানান দেয়। সেই অর্জন পাকিস্তান ক্রিকেটেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে তাদের ক্রিকেট কাঠামো ও উইকেট কন্ডিশন নিয়েও পরিবর্তনের প্রসঙ্গ সামনে আসে।
সেই সিরিজের পর দুই দলের পথচলায় এসেছে ভিন্ন গতি। পাকিস্তান দল যেমন পুনর্গঠনের চেষ্টা চালিয়েছে, তেমনি বাংলাদেশ দলও টেস্ট ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা খুঁজে ফেরার লড়াইয়ে রয়েছে। বিশেষ করে ঘরের মাঠে ফলাফল স্থিতিশীল করার লক্ষ্যই এখন তাদের বড় চ্যালেঞ্জ।
সর্বশেষ টেস্ট চক্রে বাংলাদেশ নিজেদের মাটিতে একাধিক সিরিজ খেললেও ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি। তবে সাম্প্রতিক কিছু ঘরোয়া জয়ের অভিজ্ঞতা দলকে নতুন আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই এবার পাকিস্তানের বিপক্ষে নতুন সিরিজে নামছে বাংলাদেশ।
সিরিজ সামনে রেখে প্রস্তুতিতে ভিন্ন পরিকল্পনার আভাসও মিলছে। দীর্ঘদিন ধরে টেস্টে বাংলাদেশের শক্তির জায়গা হিসেবে বিবেচিত স্পিননির্ভরতা থেকে কিছুটা সরে এসে এবার পেস আক্রমণের ওপর জোর দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। উইকেট নিয়েও কাজ চলছে, যাতে ব্যাটসম্যান ও বোলার—দুই পক্ষের জন্যই ভারসাম্য থাকে।
দলে নতুন সংযোজনও আলোচনায় এসেছে। সাদা বলের ক্রিকেটে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের জন্য পরিচিত তানজিদ হাসানকে টেস্ট দলে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তার অভিষেকের সম্ভাবনাও রয়েছে। একই সঙ্গে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করা মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান অমিত হাসানকেও দলে যুক্ত করা হয়েছে।
টিম ম্যানেজমেন্টের ভাবনায় এই দুই তরুণকে সামনে এনে টেস্ট দলে নতুন শক্তি যোগ করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে ওপেনিং ও মিডল অর্ডারে স্থিতিশীলতা আনাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।



