সুনামগঞ্জে টানা অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একদিন বিরতির পর মঙ্গলবার (৫ মে) ভোররাত থেকে আবারও ভারি বৃষ্টি শুরু হওয়ায় নতুন করে জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে হাজার হাজার হেক্টর জমির পাকা ধান। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ধরা হলেও কৃষক ও হাওর নেতাদের দাবি, বাস্তবে ক্ষতি হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।
সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় এখন পর্যন্ত ২৩ শতাংশ ধান হাওরে রয়ে গেছে। হাওর এলাকায় ৭৭ শতাংশ ধান কাটা হলেও নন-হাওর এলাকায় কাটা হয়েছে মাত্র ৬৫ শতাংশ। বর্তমানে হাওরের প্রায় ২০ হাজার ৬০ হেক্টর বোরো ফসল সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টির কারণে কাটা ধান মাড়াই ও শুকানো সম্ভব না হওয়ায় খলায় রাখা ধানও পচে নষ্ট হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ওমর ফারুক বলেন, “টানা বৃষ্টির কারণে কৃষকদের ধান সংগ্রহে চরম বিঘ্ন ঘটছে। আমাদের প্রাথমিক হিসেবে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।”
অন্যদিকে, হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলন সরকারি এই হিসাবের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, “সরকারি হিসেবে যদি ৫০০ কোটি টাকা হয়, বাস্তবে তা কয়েক গুণ বেশি হবে। আমাদের ধারণা, ক্ষতির পরিমাণ হাজার কোটি টাকার নিচে নয়। কারণ শুধু পানির নিচের ধান নয়, কেটে আনা ধানও পচে নষ্ট হচ্ছে।”
দেখার হাওরপাড়ের লীলপুর এলাকার কৃষক জমিরুল হক (৭০) আক্ষেপ করে বলেন, “আমার চার ভাগের এক ভাগ ধান কেটে এনেছি। বাকি তিন ভাগ ধান এখন ৬ থেকে ৮ ফুট পানির নিচে। এই ধান আর ঘরে তোলা সম্ভব হবে না।”
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতে সুরমা নদীর পানি ১২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ১.১৮ মিটার নিচে রয়েছে, তবে যাদুকাটা, চলতি, চেলা ও খাসিয়ামারা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হাওরের উঁচু এলাকাগুলোও তলিয়ে যাচ্ছে।



