চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের রাজনীতিতে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। আসন্ন হাজীগঞ্জ উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের কমিটিতে সভাপতি পদে আলোচনার শীর্ষে উঠে এসেছেন তরুণ ছাত্রনেতা শামসুদ্দিন খাঁন নুর। দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় রাজনীতি, আন্দোলন-সংগ্রামে সাহসী ভূমিকা এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কারণে নেতাকর্মীদের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন তিনি।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছাত্রদলের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম, সাংগঠনিক কার্যক্রম ও ছাত্র অধিকার আদায়ের কর্মসূচিতে সবসময় সামনের সারিতে ছিলেন শামসুদ্দিন খাঁন নুর। রাজনৈতিক প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি রাজপথে সক্রিয় থেকেছেন এবং দলীয় কর্মসূচি সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। নেতাকর্মীদের দাবি, শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচিই নয়, দলের দুঃসময়ে কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন অন্যতম ভরসার নাম।
বিশেষ করে আন্দোলন চলাকালে যখন অনেক ছাত্রনেতা কারাবন্দি ছিলেন, তখন তাদের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া, আর্থিক ও মানসিক সহায়তা প্রদান এবং নিয়মিত যোগাযোগ রাখার মতো মানবিক কাজ করেছেন শামসুদ্দিন খাঁন নুর। এ কারণে সাধারণ নেতাকর্মীদের মাঝেও তার গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা বেড়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।
এছাড়া করোনা মহামারির সময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, অসহায় পরিবারের সহায়তা এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে অংশগ্রহণের মাধ্যমে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন তিনি। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে গিয়েও তিনি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য কাজ করেছেন।

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময়ও তাকে রাজপথে সক্রিয়ভাবে দেখা গেছে। দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও সাহসিকতার সঙ্গে কর্মীদের নিয়ে মাঠে ছিলেন তিনি। আন্দোলন-সংগ্রামে তার ধারাবাহিক উপস্থিতি এবং ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা তৈরি করেছে।
তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মীর দাবি, হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলকে আরও সুসংগঠিত, ঐক্যবদ্ধ ও গতিশীল করতে পরিচ্ছন্ন, ত্যাগী ও কর্মীবান্ধব নেতৃত্ব প্রয়োজন। সেই বিবেচনায় সভাপতি পদে শামসুদ্দিন খাঁন নুরকে যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হিসেবে দেখছেন তারা। তাদের বিশ্বাস, তার নেতৃত্বে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে এবং সাধারণ নেতাকর্মীরা আরও বেশি সক্রিয় হয়ে উঠবেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তাকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক আলোচনা দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন পোস্ট, মন্তব্য ও শুভকামনায় উঠে আসছে তার সাংগঠনিক দক্ষতা, মানবিক কর্মকাণ্ড এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগের কথা। অনেকেই মনে করছেন, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদল নতুন গতি ও শক্তি ফিরে পাবে।

এদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের একটি সূত্র জানায়, হাজীগঞ্জ পৌর ও উপজেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি যে কোনো সময় কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে ঘোষণা করা হতে পারে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক কার্যক্রম, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা এবং নেতাকর্মীদের গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দিয়েই নতুন নেতৃত্ব চূড়ান্ত করা হচ্ছে। ফলে নতুন কমিটিকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যেও বাড়ছে আগ্রহ ও প্রত্যাশা।
তবে এ বিষয়ে এখনো কেন্দ্রীয় বা জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, মাঠপর্যায়ের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা ও ত্যাগের মূল্যায়নের ভিত্তিতেই আগামী দিনের নেতৃত্ব নির্ধারণ করা হবে।



