যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যেই আবারও রক্তাক্ত হয়ে উঠেছে লেবানন-ইসরায়েল সীমান্ত। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ইসরায়েলের সর্বশেষ হামলায় নিহতদের মধ্যে ১০ জনই একটি হামলায় প্রাণ হারান। দক্ষিণ লেবাননের দেইর কানুন শহরের একটি বাড়িতে ওই হামলা চালানো হয়। এতে তিন শিশু ও তিন নারী নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ওই হামলায় তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে এক কিশোরীও রয়েছে।
একই সময়ে হিজবুল্লাহও ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ ও পাল্টা হামলার কথা জানিয়েছে। গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনী এবং উত্তর ইসরায়েল সীমান্তের কাছে আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
এর আগে গত ২ মার্চ ইরান-সমর্থিত শিয়া ইসলামপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে রকেট ছোড়ে। গোষ্ঠীটির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়। এরপর থেকেই লেবানন সরাসরি এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।
সর্বশেষ এ হামলা ও প্রাণহানির ঘটনা এমন এক সময় ঘটল, যখন কয়েক দিন আগেই লেবানন ও ইসরায়েল ৪৫ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়াতে সম্মত হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল। জুনের শুরুতে দুই পক্ষের মধ্যে আবার আলোচনা শুরু হওয়ার কথাও রয়েছে।
তবে যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হলেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, তারা হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। তবে এসব হামলায় প্রায়ই নারী ও শিশুসহ বেসামরিক মানুষ নিহত হচ্ছেন।

