দীর্ঘ ৯৮১ দিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে ফিরলেন নেইমার জুনিয়র। তবে এই প্রত্যাবর্তন শুধুই ফুটবলের ছিল না; ছিল আবেগ, অশ্রু এবং পরিবারের সঙ্গে এক হৃদয়ছোঁয়া পুনর্মিলনের গল্পও।
ম্যাচ শুরুর আগেই ব্রাজিল দলের বেঞ্চের সামনে ভিড় জমিয়েছিলেন ফটোগ্রাফাররা। সবার দৃষ্টি ছিল এক ব্যক্তিকে ঘিরে—দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফেরা নেইমারের দিকে।
অবশেষে আসে সেই প্রতীক্ষিত মুহূর্ত। ম্যাচের ৭৫তম মিনিটে ম্যাথিউস কুনহার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির বোর্ডে তার নাম ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে গ্যালারি। ৯৮১ দিন পর আবারও ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে নামলেন নেইমার।
মাঠে নেমে খুব বেশি প্রভাব ফেলতে না পারলেও তখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ছিল ব্রাজিলের হাতে। ৩-০ গোলে এগিয়ে থাকা দলটির জয় তখন প্রায় নিশ্চিত।
তবে ম্যাচ শেষে দেখা যায় এক ভিন্ন নেইমারকে। শেষ বাঁশি বাজতেই গ্যালারির দিকে ছুটে যান তিনি। আবেগ আর ধরে রাখতে না পেরে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন ব্রাজিলিয়ান এই তারকা। এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আবেগঘন মুহূর্ত ভাগ করে নেন তিনি।
গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন তার স্ত্রী ব্রুনা বিয়ানকার্দি। জানা গেছে, তার গর্ভে রয়েছে নেইমারের পঞ্চম সন্তান। সেখানে ছিলেন নেইমারের বড় ছেলে ১৪ বছর বয়সী ডেভি লুকাও।
বাবার কাছে যাওয়ার সময় প্রথমে নিরাপত্তারক্ষীদের বাধার মুখে পড়েন ডেভি লুকা। পরে নেইমারের ছেলে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে যেতে দেওয়া হয়। এরপর বাবা-ছেলের আবেগঘন আলিঙ্গনে তৈরি হয় হৃদয়স্পর্শী এক মুহূর্ত।
ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে নেইমার বলেন,
“খেলার পর আমি আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েছিলাম। তারপর আমি আমার পরিবারের সঙ্গে দেখা করলাম। সবাই কাঁদছিল, হাসছিল, আনন্দ করছিল। এটা ছিল মিশ্র অনুভূতির এক মুহূর্ত।”
তিনি আরও বলেন,
“এটা সত্যিকারের কৃতজ্ঞতার মুহূর্ত। আমার লক্ষ্য ছিল বিশ্বকাপে খেলা, জাতীয় দলে ফেরা এবং আবারও এই জার্সি গায়ে তোলা। আমি এখানে থাকতে ভালোবাসি, ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে খেলতে ভালোবাসি।”
সমর্থকদের উদ্দেশে নেইমার বলেন,
“আমি ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। তাদের ভালোবাসা এবং সবসময় পাশে থাকার জন্য কৃতজ্ঞ। এখানে ফিরে আসা সহজ ছিল না, কিন্তু আমরা পেরেছি।”
দীর্ঘ বিরতির পর নেইমারের এই প্রত্যাবর্তন শুধু ব্রাজিল সমর্থকদেরই নয়, পুরো ফুটবল বিশ্বকেই আবেগে ভাসিয়েছে।

