Homeজাতীয়আদ্‌-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধ: অনিশ্চয়তায় ২৯৫ বিদেশি শিক্ষার্থী, ডিগ্রির স্বীকৃতি নিয়ে শঙ্কা

আদ্‌-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধ: অনিশ্চয়তায় ২৯৫ বিদেশি শিক্ষার্থী, ডিগ্রির স্বীকৃতি নিয়ে শঙ্কা

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন আদ্‌-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের ২৯৫ বিদেশি শিক্ষার্থী। ক্লিনিক্যাল ক্লাস ও ইন্টার্নশিপ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের ডিগ্রির আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সমাধানের আশায় সোমবার (২২ জুন) শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরে গেলেও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেননি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয় তাদের।
গত ১১ জুন ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তর আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালের নিবন্ধন স্থগিত করে। এর পর থেকেই হাসপাতালভিত্তিক ক্লিনিক্যাল শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এতে আদ্‌-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লিনিক্যাল ক্লাস ব্যাহত হচ্ছে এবং ইন্টার্নশিপ কোথায় সম্পন্ন হবে, সে বিষয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ২৯৫ জন বিদেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে ৮৬ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং ২০৯ জন নিয়মিত মেডিকেল শিক্ষার্থী। তাদের অধিকাংশই ভারতের নাগরিক।
ভারতের প্রচলিত মেডিকেল শিক্ষা বিধিমালা অনুযায়ী, বিদেশে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কলেজের নিজস্ব বা অনুমোদিত সংযুক্ত হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করলে দেশে ফিরে ডিগ্রির স্বীকৃতি পেতে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা।
ভারতের কাশ্মীর থেকে আসা এক শিক্ষার্থী রেজা বলেন, “বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা অন্য হাসপাতালে মাইগ্রেশনের সুযোগ পাচ্ছে। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে সেটি সম্ভব নয়। আমাদের কারিকুলাম অনুযায়ী এখানেই শিক্ষা কার্যক্রম শেষ করতে হবে। আমি আট বছর ধরে এখানে পড়াশোনা করছি। এখন যদি পড়াশোনা আটকে যায়, তাহলে আমার ডিগ্রির কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে পড়বে।”
আরেক শিক্ষার্থী খুজাইমা বলেন, “আমরা শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে আছি। দূতাবাসসহ বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগের চেষ্টা করেছি, কিন্তু কোনো সাড়া পাইনি। বাধ্য হয়ে অধিদপ্তরে এসেছিলাম বর্তমান পরিস্থিতি জানাতে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা না হওয়ায় আমরা আরও দুশ্চিন্তায় পড়েছি।”
এ বিষয়ে স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, বিদেশি শিক্ষার্থীদের বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেখছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান বলেন, শিক্ষার্থীরা অধিদপ্তরে এসেছিলেন বলে তিনি জেনেছেন। তবে অন্য একটি কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকায় তিনি উপস্থিত ছিলেন না। হাসপাতাল পুনরায় চালু হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত মহাপরিচালকই জানাতে পারবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
একই ধরনের বক্তব্য দেন অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান।
স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, একটি অবহেলার ঘটনার পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল পুনরায় চালুর বিষয়টি বিভিন্ন আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি জানান, আদ্‌-দ্বীন কর্তৃপক্ষের আপিল করার সুযোগ এখনও রয়েছে। তবে তারা একদিকে স্বাস্থ্য সচিবের কাছে আবেদন করেছে এবং অন্যদিকে আদালতে রিট দায়ের করায় বিষয়টি জটিল হয়েছে।
বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর সিদ্ধান্ত দেবে।
অন্যদিকে আদ্‌-দ্বীন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিবন্ধন স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক আপিল না করে তারা মানবিক বিবেচনায় হাসপাতাল পুনরায় চালুর আবেদন করেছে।
আদ্‌-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুস সবুর বলেন, “লাইসেন্স স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আপিল নয়, আমরা রোগীদের স্বার্থ বিবেচনায় হাসপাতাল চালুর আবেদন করেছি। সরকারের নির্দেশিত সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের কাজ চলছে। আশা করছি, আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে।”
এর আগে গত ১৪ জুন শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়ে পরিকল্পনা জানতে চেয়ে আদ্‌-দ্বীন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয় স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন বলেন, হাসপাতাল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তর; শিক্ষা অধিদপ্তর কলেজ বন্ধ করেনি। শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে কলেজ কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা জানতে চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং এ মুহূর্তে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য