দেশে ডেঙ্গুর বিস্তার এবং মৃত্যুহার নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকদের দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও করপোরেট হাসপাতালের চিকিৎসকদেরও এই উদ্যোগের আওতায় আনা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গু রোগী শনাক্তকরণ, ট্রায়াজ এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় জাতীয় প্রোটোকলের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করাই এই প্রশিক্ষণের প্রধান উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে দেশের সব পর্যায়ের চিকিৎসকদের ডেঙ্গুর ক্লিনিক্যাল ব্যবস্থাপনায় আরও দক্ষ করে তোলা হবে।
ইতোমধ্যে রাজধানীতে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স (টিওটি)’ কর্মসূচির দুটি ব্যাচ সম্পন্ন হয়েছে। এতে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালের মোট ১৩৫ জন চিকিৎসক অংশগ্রহণ করেছেন।
বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ডা. মো. ইলিয়াস ভূঁইয়া জানিয়েছেন, শিগগিরই দেশের আটটি বিভাগে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে। প্রতিটি বিভাগ থেকে প্রায় ৭০ জন চিকিৎসককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ডেঙ্গুপ্রবণ ৮ থেকে ১০টি জেলায় প্রথম ধাপে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
গত ৭ জুন জাতীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ডেঙ্গু বর্তমানে দেশের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সচেতন অংশগ্রহণও জরুরি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানিয়েছেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে তাদের মোট শয্যার ১০ শতাংশ ডেঙ্গু রোগীদের জন্য বিনামূল্যে বরাদ্দ রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু পরীক্ষার খরচে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য রোগনিয়ন্ত্রণ শাখা, আইইডিসিআর, এমআইএস এবং হাসপাতাল শাখার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু কর্নার স্থাপন এবং রোগীর চাপ বৃদ্ধি পেলে অতিরিক্ত ফিল্ড হাসপাতাল চালুর প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২২ জুন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫ হাজার ৯ জন রোগী। আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ঢাকা ও বরিশাল বিভাগে। এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে জুন মাসেই মারা গেছেন ৫ জন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ, সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ডেঙ্গুজনিত জটিলতা ও মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।

