Homeজাতীয়বিএমইউতে গুড ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস বিষয়ক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু।

বিএমইউতে গুড ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস বিষয়ক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু।

ঢাকা, ২৪ জুন ২০২৬: বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)-এর উদ্যোগে ‘গুড ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস (Good Clinical Practice-GCP)’ বিষয়ক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে আয়োজিত এ কর্মশালার উদ্বোধন করেন বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ. এম. সিদ্দিকী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল (আইকিউএসি) আয়োজিত এ কর্মশালায় রিসোর্স পারসন হিসেবে অংশগ্রহণ করেন যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিনস ইউনিভার্সিটির ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট মো. হাফিজুর রহমান (এমবিবিএস, এমপিএইচ)। তিনি গুড ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস, গবেষণার নৈতিক দিক, বায়োইথিকস এবং জনস্বাস্থ্য নৈতিকতা বিষয়ে তথ্যসমৃদ্ধ বিভিন্ন প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন আইকিউএসি পরিচালক অধ্যাপক ডা. নুরুন নাহার খানম। যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক ডা. দীনে মুজাহিদ মোহাম্মদ ফারুক ওসমানী এবং ডা. আবু সালেহ মো. আবু ওবাইদা। কর্মশালায় বিএমইউর ৩৭ জন ফ্যাকাল্টি সদস্য অংশগ্রহণ করছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ. এম. সিদ্দিকী বলেন, গুড ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস বিষয়ক প্রশিক্ষণ চিকিৎসা পেশায় দক্ষতা বৃদ্ধির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কর্মশালার মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা নিজ নিজ বিভাগে রেসিডেন্ট চিকিৎসক, জুনিয়র শিক্ষক এবং সহকর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসা শিক্ষা, সেবা ও গবেষণায় বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, এই প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান ভবিষ্যতে দক্ষ চিকিৎসক সমাজ গঠন এবং আধুনিক স্বাস্থ্যখাত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আইকিউএসি পরিচালক অধ্যাপক ডা. নুরুন নাহার খানম বলেন, কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো ক্লিনিক্যাল সেবা ও গবেষণায় নৈতিক, পেশাগত ও বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড সম্পর্কে সমন্বিত ধারণা আরও সুদৃঢ় করা। তিনি বলেন, গুড ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস এমন একটি কাঠামো প্রদান করে, যা রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মানবাধিকার সংরক্ষণ, স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং সর্বোচ্চ নৈতিক মানদণ্ড অনুসরণে স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের সহায়তা করে।


কর্মশালায় জানানো হয়, দুই দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে বায়োমেডিকেল এথিক্স, জনস্বাস্থ্য নৈতিকতা, পেশাগত দায়িত্ববোধ, প্রশাসনিক নৈতিকতা, সাংগঠনিক সংস্কৃতি, নেতৃত্ব, নৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যসেবায় উদীয়মান প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি অংশগ্রহণমূলকভাবে সাজানো হয়েছে। এতে বক্তৃতার পাশাপাশি কেস অ্যানালাইসিস, নৈতিক বিতর্ক, দলীয় আলোচনা এবং ব্যবহারিক অনুশীলনের সুযোগ রাখা হয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, জনস্বাস্থ্য, মহামারীবিদ্যা ও আন্তর্জাতিক একাডেমিক নেতৃত্বে রিসোর্স পারসনের অভিজ্ঞতা বিএমইউর অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা ও গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
আয়োজকরা জানান, এ ধরনের উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ে মান নিশ্চিতকরণ, গবেষণার উৎকর্ষ সাধন এবং একাডেমিক শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা, জবাবদিহিতা, পেশাদারিত্ব, দলগত কাজ এবং আজীবন শিক্ষার সংস্কৃতি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী ফ্যাকাল্টিদের আলোচনায় সক্রিয় অংশগ্রহণ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং কর্মশালায় অর্জিত জ্ঞানকে দৈনন্দিন পেশাগত অনুশীলনে প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য