হোম জাতীয় টিকা সংকটে বিপর্যস্ত রোগ নিয়ন্ত্রণ, দায় নিয়ে বিতর্ক

টিকা সংকটে বিপর্যস্ত রোগ নিয়ন্ত্রণ, দায় নিয়ে বিতর্ক

ঢাকা, মঙ্গলবার: দেশের শিশুদের টিকাদান কর্মসূচিতে বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্তে অপারেশন প্ল্যান (ওপি) বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর টিকা সংগ্রহ ও বিতরণে ধীরগতি সৃষ্টি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, আগে ওপি’র মাধ্যমে সরকার সরাসরি টিকা কিনে Expanded Programme on Immunization (EPI)-এর মাধ্যমে সারা দেশে শিশুদের মধ্যে বিতরণ করত। কিন্তু ২০২৪ সালে হঠাৎ করে এই ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয় অন্তর্বর্তী সরকার, ফলে টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, টিকাদানের হার গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে কমেছে।
২০২৫ সালে টিকার আওতায় এসেছে মাত্র ৫৭.১ শতাংশ শিশু, যেখানে ২০২৪ সালে ছিল ৮৫.৮ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৮৯.৪ শতাংশ, ২০২২ সালে ৯৭.৯ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ৯৭.৩ শতাংশ। এমনকি করোনা মহামারির সময় ২০২০ সালেও এই হার ছিল ৮১.৭ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা কর্মসূচির এই ধসের কারণে দেশে পুনরায় ছড়িয়ে পড়ছে প্রতিরোধযোগ্য রোগ। ইতোমধ্যে সারা দেশে হামের প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। হাসপাতালগুলোতে আক্রান্ত শিশুদের ভিড় বাড়ছে এবং এখন পর্যন্ত ৪১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন,
“ওপি বন্ধ করে দেওয়া একটি হঠকারী সিদ্ধান্ত। এর ফলে টিকা কর্মসূচিতে বড় সংকট তৈরি হয়েছে। বর্তমানে হামের প্রকোপ বাড়ছে এবং ৯ মাস বয়সের আগেই শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”

তিনি আরও জানান, ইউএসএইডের অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে জলাতঙ্ক, এইডস নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন জনস্বাস্থ্য কর্মসূচিও ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে, ওপি বন্ধের পর সরকার ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু বাজেট অনুমোদন ও প্রশাসনিক জটিলতায় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হওয়ায় সময়মতো টিকা সংগ্রহ সম্ভব হয়নি। ফলে দেশে টিকার সংকট তীব্র আকার ধারণ করে।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে কালাজ্বর ও ফাইলেরিয়ার মতো নিয়ন্ত্রণে থাকা রোগগুলোও পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।

স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিন ধরে চলমান পাঁচ বছর মেয়াদি স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা সেক্টর কর্মসূচির আওতায় ৩৬টি অপারেশন প্ল্যানের মাধ্যমে যে অগ্রগতি হয়েছিল, তা এখন থমকে গেছে। ২০২৪ সালের জুনে এই কর্মসূচির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন কোনো কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে টিকা কর্মসূচি পুনরুজ্জীবিত করা যায় এবং শিশুদের জীবন ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়।

একটি উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে