বাংলাদেশের সমুদ্র ও উপকূলীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের বহরে অত্যাধুনিক নজরদারি হেলিকপ্টার যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সম্প্রতি এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, আধুনিক জাহাজ, ড্রোন, নজরদারি ব্যবস্থা এবং জনবল বৃদ্ধির মাধ্যমে কোস্টগার্ডকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, উপকূলীয় ও গভীর সমুদ্র এলাকায় দ্রুত নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা বাড়াতে এসব হেলিকপ্টার কেনা হবে। এতে সমুদ্রসীমা পর্যবেক্ষণ আরও কার্যকর হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
তাঁদের মতে, হেলিকপ্টার যুক্ত হলে মাদক পাচার, মানব পাচার, অবৈধ মৎস্য আহরণ ও জলদস্যুতা দমনে কোস্টগার্ডের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়বে। এসব হেলিকপ্টারে উন্নত সেন্সর, রাডার সিস্টেম এবং রিয়েল-টাইম ডাটা ট্রান্সমিশন প্রযুক্তি থাকবে। ফলে সন্দেহভাজন নৌযান দ্রুত শনাক্ত করা এবং টহল জাহাজ ও উপকূলীয় ইউনিটগুলোকে তাৎক্ষণিক তথ্য পাঠানো সহজ হবে।
একইসঙ্গে একটি সমন্বিত ‘মেরিটাইম সার্ভেইলেন্স সিস্টেম’ গড়ে তোলার কাজও এগিয়ে চলছে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে উপকূলীয় জলসীমা, প্রধান জাহাজ চলাচল পথ এবং সমুদ্রবন্দরগুলোতে সার্বক্ষণিক ডিজিটাল নজরদারি চালানো সম্ভব হবে। স্যাটেলাইট প্রযুক্তি, রাডার স্টেশন, ড্রোন ও আকাশপথের নজরদারি একত্র করে একটি কেন্দ্রীয় কমান্ড কাঠামোর অধীনে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
আধুনিকায়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কোস্টগার্ডে ইতোমধ্যে ড্রোন প্রযুক্তি, অফশোর টহল জাহাজ, ফাস্ট পেট্রোল ক্রাফট ও উচ্চগতির বোট যুক্ত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হেলিকপ্টার ও সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থা যুক্ত হলে সমুদ্রসীমার ওপর সার্বিক নজরদারি আরও শক্তিশালী হবে।
সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বঙ্গোপসাগর জুড়ে অপরাধ দমন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান আরও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমান সরকার বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সার্বিক উন্নয়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে সম্প্রতি বাহিনীটির বহরে একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনসহ তিনটি নজরদারি ড্রোন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জাইকার অর্থায়নে একটি মাল্টি-রোল রেসপন্স ভেসেল ও দুটি অফশোর পেট্রোল ভেসেল নির্মাণের কাজও চলছে।
এ ছাড়া উপকূলীয় নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে খুলনা শিপইয়ার্ডের মাধ্যমে বুলেটপ্রুফ হাই-স্পিড বোট কেনার চুক্তি হয়েছে। পাশাপাশি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় একটি আধুনিক ডকইয়ার্ড স্থাপনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। ৯টি পুরনো জাহাজের পরিবর্তে দেশীয় শিপইয়ার্ডে নির্মিত ৯টি নতুন টহল জাহাজ যুক্ত করার প্রকল্পও চলমান রয়েছে।
বাহিনীর জনবল প্রায় ১০ হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। এসব আধুনিক জাহাজ ও উন্নত প্রযুক্তি যুক্ত হলে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের কার্যক্ষমতা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



