লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার এই ভূমিকম্পে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, এই শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকায় ভবন ধস, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং আফটারশকের আতঙ্কে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা এই দুই ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১ লাখ পর্যন্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ইউএসজিএস। যদিও এখন পর্যন্ত দেশটির সরকার নিহত বা আহতের কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি।
ইউএসজিএস জানায়, স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপ এলাকার কাছে ৭ দশমিক ২ মাত্রার প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর কিছুক্ষণ পর রাজধানী থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার পশ্চিমে ইউমার অঞ্চলের কাছে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরও শক্তিশালী দ্বিতীয় ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এই ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে দুর্যোগের প্রভাব বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেও জানানো হয়েছে।
বিবিসির লাইভ আপডেটেও বলা হয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কারাকাস ও আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে। এরপর ইউএসজিএস প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ভয়াবহ হতে পারে বলে সতর্কতা জারি করে।
এছাড়া ভূমিকম্পের কারণে ভূমিধস এবং মাটির তরলীকরণ বা ‘লিকুইফ্যাকশন’-এর ঝুঁকিও বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের সময় আলগা মাটির স্তর তরলের মতো আচরণ করলে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় তাকে লিকুইফ্যাকশন বলা হয়, যা বড় ধরনের ধস ও ক্ষতির কারণ হতে পারে।
আফটারশকের আশঙ্কায় হাজার হাজার মানুষ এখনও নিজেদের বাড়িতে ফিরতে সাহস করছেন না। ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেয়ো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানিয়েছেন, কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে।
এই ভূমিকম্পের কম্পন প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতা পর্যন্ত অনুভূত হয়েছে। তবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখনও উদ্ধার ও পরিস্থিতি মূল্যায়নের কাজ চলছে। ফলে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

