মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান জানিয়েছে, তারা কোনো যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করছে না এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, প্রয়োজনে এমন উন্নত সামরিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে যা এখনো পর্যন্ত চলমান সংঘাতে ব্যবহার করা হয়নি।
ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সম্ভাব্য নতুন হামলার ঢেউয়ে ইরানের প্রতিপক্ষদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তার দাবি, ইরান ইতোমধ্যে নতুন সামরিক উদ্যোগ ও আধুনিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরান বর্তমানে কোনো যুদ্ধবিরতির আবেদন করছে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি ইরানের ভূখণ্ডে কোনো স্থল সামরিক অভিযান চালানো হয়, তাহলে সেখানে মোতায়েন করা মার্কিন সেনাদের মোকাবিলার জন্য তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানে স্থল সেনা মোতায়েনের বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন সময়ে এ নিয়ে ভিন্নধর্মী ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
আরাগচি আরও বলেন, চলমান এই সংঘাতের শেষ পর্যন্ত কোনো পক্ষই প্রকৃত অর্থে বিজয়ী হবে না।
অন্যদিকে আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নায়েনি এক বিবৃতিতে বলেন, আসন্ন সামরিক পদক্ষেপে ইরানের শত্রুদের জন্য পরিস্থিতি “বেদনাদায়ক” হতে পারে। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে যে প্রযুক্তি ও অস্ত্রের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, সেগুলোর অনেকগুলো এখনো বড় পরিসরে ব্যবহৃত হয়নি।
নায়েনির মতে, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘটিত ১২ দিনের সংঘাতের সময়ের তুলনায় এখন ইরান সামরিকভাবে আরও বেশি প্রস্তুত। তিনি চলমান সংঘাতকে “পবিত্র ও বৈধ যুদ্ধ” হিসেবেও উল্লেখ করেন।
সূত্র: আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম








